জাতীয় সংসদে “ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ” সংক্রান্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বুধবার তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামীর মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খানের বক্তব্যে আপত্তি জানায় বিএনপি। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ওই বক্তব্যের একটি অংশ সংসদের কার্যবিবরণী (এক্সপাঞ্জ) থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তাজউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং অর্থ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, “সরকার ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেছে। এতে ওয়ার্ডপ্রতি গড়ে প্রায় ৯০টি পরিবার এই সুবিধা পাবে।” বাকি দরিদ্র পরিবারগুলোর কী হবে সেই প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, কার্ড পাওয়ার প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এম. মাহবুবউদ্দিন খোকন জানান, সংসদে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার অনুচিত। তিনি ওই বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
এরপর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল “ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ” এই অংশটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন জামায়াতের হুইপ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “কোনো বক্তব্য অসত্য বা অসংসদীয় না হলে তা এক্সপাঞ্জ করার সুযোগ নেই।”
পরে আবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তাজউদ্দিন খান দাবি করেন, তিনি প্রকাশিত সংবাদ ও পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতেই মন্তব্য করেছেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে ফরিদপুর ও রংপুরের দুটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে অপরাধের অভিযোগে মামলা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলে ধরেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুধু সরকারের নয়, দেশের অসহায় মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি।”
মাগরিবের বিরতির পর বিষয়টি আবারও সংসদে উত্থাপন করেন রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “তাজউদ্দিন খান ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতা করেননি; বরং কার্ডকে ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগের কথা বলেছেন। তাই বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার প্রয়োজন ছিল না।”
জবাবে ডেপুটি স্পিকার জানান, পরবর্তীতে তথ্যসূত্র ও মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দেওয়া বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণীতে থাকবে। এরপর সরকারি দলের কিছু সদস্য আপত্তি জানালেও তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ঘোষণা দেন।