জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম-বরকত হলে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে প্রথমবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় হলের বি-ব্লকের ১৫১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১৯ জুন) এ বিষয়ে বিকেলে হল প্রশাসন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, হলের ১৫১ নম্বর কক্ষে তাদের প্রতি অসদাচরণ, অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ, অপসংস্কৃতি চর্চা ও শারিরীকভাবে হেনস্তা করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন গণিত বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাশিবুর রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ ব্যাচের রাকিব এবং আইন ও বিচার বিভাগের ৫৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন মিলন।
তবে গণিত বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাশিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনার সময় আমি নিজ রুমে পড়ছিলাম। পরে রুমের বাইরে বের হলে ৫৫ ব্যাচের এক জুনিয়রের সঙ্গে কথা হয়। পরে পাশের ১৫০ ও ১৫১ নম্বর রুমে থাকা ৫৪ ব্যাচের জুনিয়রদের সঙ্গে হলের ওয়াইফাই নিয়ে আলোচনা করি। এরপর সবাই নিজ নিজ রুমে ফিরে যাই। অভিযোগে বর্ণিত কোনো র্যাগিং বা অসদাচরণের ঘটনায় আমি জড়িত ছিলাম না।”
আইন ও বিচার বিভাগের ৫৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেনও বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি রুমের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন রুম থেকে আওয়াজ শুনতে পাই। কি হচ্ছে দেখতে আমি ভিতরে যাই। একটু পরই হল প্রশাসন রুমে আসে। আমি কোন র্যাগ দেইনি।”
শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রভোস্ট মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, “এ খবর পেয়েই আমরা সেই রুমে যাই। প্রথমবর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কিছুটা আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পাই। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এটা হলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। হল প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নিবে।”