Friday, June 19, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’ ছাত্রীকে খু্বি শিক্ষক

বিশ্ববিদ্যালয় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, অশালীন আচরণ এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো কথিত আপত্তিকর বার্তার স্ক্রিনশটসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। বুধবার অভিযোগটি তদন্তের জন্য যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

অভিযোগে শিক্ষার্থী দাবি করেন, শুরুতে শিক্ষক তার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ধারাবাহিকভাবে ব্যক্তিগত, অশালীন ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে থাকেন। অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া বার্তাগুলোতে “আই লাভ ইউ”, “আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না”, “তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল” এবং “তোমাকে আদর করে মারতে চাই” এমন বক্তব্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণের পর থেকেই ওই শিক্ষক নিয়মিত ব্যক্তিগত বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে বার্তাগুলোর ভাষা আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। প্রথমদিকে বিষয়টি নিয়ে ভয় পেলেও পরে সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেই।”

তিনি আরও জানান, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হন, সে জন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি।

একই ডিসিপ্লিনের আরও কয়েকজন ছাত্রীও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মৌখিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ক্লাসের বাইরে গভীর রাতে ফোন করা, ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর প্রশ্ন করা এবং শিক্ষকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে একাডেমিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হতো। তারা অভিযোগের সমর্থনে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন চুরি হওয়ার পর ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে। ডিসিপ্লিনে বিভিন্ন নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কারণে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোছা. তাসলিমা খাতুন বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে।”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে ড. মো. ইয়াসিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

 

   

About

Popular Links

x