যে কারণে উৎপাদন ও ওজন দুটোই কমছে ‘মাছের রাজা’ ইলিশের

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন গত তিন বছর ধরে নিম্নমুখী। শুধু উৎপাদনই নয়, বাজারে বড় আকারের ইলিশও তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এক প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা বলছে, ২০২১ সালের পর থেকে ইলিশ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি থেমে গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে উৎপাদন ছিল প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে পরবর্তী দুই অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার এবং ৫ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টনে। ২৬-২৭ অর্থবছরেও উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাটকা নিধন, নদী ও সাগরে অবৈধ মাছ ধরা, নাব্যতা সংকট, দূষণ এবং ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে এবং বাজারে ছোট আকারের মাছ বেশি দেখা যাচ্ছে।

ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ বলেন, “নদী থেকে সাগরে যাওয়ার পথে এবং সমুদ্র উপকূলে অতিরিক্ত আহরণের কারণে ইলিশের প্রাকৃতিক জীবনচক্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীর পরিবেশগত অবনতিও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. আনিসুর রহমানের মতে, ইলিশের উৎপাদন ও গড় ওজন কমে যাওয়ার কারণ দ্রুত শনাক্ত করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ছোট মাছ বড় হওয়ার সুযোগ না পেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাগরকেন্দ্রিক নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ইলিশ রক্ষায় নদী ও সমুদ্রে নজরদারি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।