হামে মৃত শিশুদের ৯২% টিকার বাইরে, মৃত্যু ছাড়ালো ৭০০

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে প্রাণ হারানো শিশুদের ৯২% হাম-রুবেলার কোনো টিকা পায়নি। একই সঙ্গে মৃত শিশুদের ২৬% এর বয়সই ৯ মাসের নিচে, অর্থাৎ তারা প্রথম ডোজ পাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের হাম-রুবেলাবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিশনের সভায় বাংলাদেশের এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি এবং টিকাদান কার্যসূচিতে নজরদারির অভাবের কারণেই পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গত শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ জন। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া সব মৃত্যুই হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৮ হাজার ২৬৬ জন, যার মধ্যে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের শরীরে হামের নিশ্চিত উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অবশ্য চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

কলম্বোর ওই সভায় বাংলাদেশের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন হাম ও রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম যাচাইয়ের জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান এবং আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। তিনি জানান, কলম্বোতে জুনের প্রথমার্ধের তথ্য উপস্থাপন করা হলেও বর্তমানে মৃত্যুর সংখ্যা সাত শ পার হওয়ার পরও টিকা না পাওয়ার এই হার একই রয়েছে।

উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ২৬% শিশু মারা গেছে বয়স ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই। এছাড়া ৯ থেকে ১১ মাস বয়সী ১৪%, ১ থেকে ২ বছর বয়সী ১৩%, ২ থেকে ৫ বছর বয়সী ১৮%, ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী ১৩% এবং ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৪% শিশু মারা গেছে। বাকি ১২% এর বয়স ১৫ বছরের বেশি, যা প্রমাণ করে শুধু শিশু নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও এবার হামে আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছেন।

জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর ৯ মাস বয়সে হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। তবে পরিসংখ্যান বলছে, মৃত শিশুদের মাত্র ৮% এই টিকা পেয়েছিল। দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত তালিকায় আক্রান্তদের বয়স, লিঙ্গ বা হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য না দেওয়ায় জনস্বাস্থ্যবিদ ও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপে এবার হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ কমিশন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হামের বিরুদ্ধে জরুরি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল পাঠানোরও অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।