প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ক্লাস (হাতে-কলমে শিক্ষা) নিশ্চিত করতে হাসপাতালের কার্যক্রম চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টা থেকে বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদরের মদনপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেন বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।
তিনি বলেন, “বিক্ষোভের কারণে মদনপুর পয়েন্টের তিনদিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়ক ও সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।”
আন্দোলনরত মেডিকেল শিক্ষার্থী হারুন অর রশিদ বলেন, “আমাদের অনেকের পড়াশোনা শেষ হওয়ার পথে। হাতে-কলমে চিকিৎসক হওয়ার জরুরি ক্লিনিক্যাল বা ওয়ার্ড ক্লাস আমরা পাচ্ছি না।শুধু বই পড়ে ডাক্তার হওয়া যাবে না। প্রাকটিক্যাল না পড়লে আমরা অথর্ব হয়ে বের হব। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বোঝা হব।”
শিক্ষার্থী তামিমা রহমান বলেন, “ডাক্তার হওয়ার জন্য ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাচ্ছে না। পুস্তুকি ডিগ্রি নিয়ে আমরা অথর্ব হচ্ছি। এ কারণে আমরা বাধ্য হয়ে ক্লাস বর্জন করে বাইরে চলে এসেছি। আজ আমাদের আন্দোলনের নবম দিন। দাবি আদায় না হলে আমরা আমরণ কর্মসূচি চালাবো।”
সুনামগঞ্জ মেডিকেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পাস পার্শবর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে মেডিকেল কলেজ ভবন ও আবাসিক ভবন চালু হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় হাতে-কলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থীরা। এতে তারা জরুরি চিকিৎসার শিখন কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
এই অবস্থায় ২০২৫ সালেও তারা ওয়ার্ড ক্লাস চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালনের পর সরকার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ক্লিনিকেল ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। এখন মদনপুর ক্যাম্পাস থেকে জেলা সদরে এসে শিক্ষার্থীরা ক্লিনিক্যাল ক্লাস করছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এরপরও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ করতে পারছেন না। এই দাবিতে গত বছর তারা আন্দোলন করলে সরকার এক বছরের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।
কিন্তু এক বছর অতিবাহিত হবার পরও হাসপাতাল চালুর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আবারও রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
ওসি রতন শেখ বলেন, “সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আমাদের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছি। বেলা পৌনে ১টার দিকে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। এরপর সড়কের উভয় পাশে আটকে পড়া যানবাহনগুলো চলাচল করতে শুরু করে।”