নতুন জাতীয় ভিসা নীতিমালার খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ২০০৬ সালে প্রণীত ভিসা নীতি সংশোধন করে নতুন এই নীতিমালা করা হচ্ছে।
এছাড়া, খসড়াটি পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানান, পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য আরও জোরদার করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করতেই এই নতুন ভিসা নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগে হিসাব ছিল পারস্পরিক ভিত্তিতে। তোমার লোক এলে এতোটা ভিসা দেবো, এতোদিনের ভিসা দেবো, এসব শর্ত ছিল। ওরা যা দেবে আমরাও তাই করবো। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেখা যাচ্ছে যে, কিছু জায়গায় তো দরকার আমাদের বেশি। একজন ব্যবসায়ী যদি আসেন আমাদের জন্য সুবিধা। তিনি এ দেশে ইনভেস্ট করতে পারবেন। এই সরকার চায়, একটা ইকোনমিক থ্রাস্ট হোক।
তিনি জানান, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে যাতে বিদেশিরা দ্রুত আসতে পারে। কারণ দেশে তো অতো পুঁজি নেই। পুঁজি যত বাইরে থেকে ইনভেস্ট হবে ততো ভালো। আমরা সারপ্লাস পুঁজি আনার চেষ্টা করছি।
নাসিমুল গনি বলেন, ভিসা নীতিতে আগে থেকে যে দেশ কালো তালিকাভুক্ত ছিল, সেই অবস্থান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উদ্দেশ্য বিবেচনায় ভিসা ৩৪টি পৃথক ক্যাটাগরিতে বিন্যস্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যেগুলো পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা, পারস্পরিকতা নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা করা এবং আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালের ভিসা নীতিমালা সংশোধন করে ভিসানীতি ২০২৬ এর খসড়া পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।