নরসিংদীতে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমদিনে নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সাবসেন্টারের একটি কক্ষে বেশকিছু শিক্ষার্থীকে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা গ্রহণকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০১ নম্বর রুমে এই ঘটনা ঘটে। এটি সরকারি মহিলা কলেজের সাবসেন্টার।
পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে, পুনরায় ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলেও অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের। তবে, তারা কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। ওই কক্ষের মোট কতজন শিক্ষার্থী ঘটনায় ভুক্তভোগী হয়েছেন তা স্পষ্ট জানা যায়নি। এই ঘটনায় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ২ শিক্ষককে প্রত্যাহার করেছেন কেন্দ্র সচিব।
পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “কেন্দ্রের ২০১ নং রুমে কিছু শিক্ষার্থীকে ভুলবশত পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর জানতে পেরে আবার নতুন বছরের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। বিষয়টিতে আমরা বিব্রত।”
এবিষয়ে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কেন্দ্রের প্রশ্ন আনা-নেয়া থেকে শুরু করে সর্বোপরি দায়িত্বে থাকা নরসিংদী সরকারী মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এঘটনায় আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বিবরণ লিখিতভাবে জানানোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা জাহান সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, মূল কেন্দ্রের প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী এই সাবসেন্টারে প্রথম দিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
এবছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ৩১টি কেন্দ্রে ১৫,১৬৮ জন শিক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদিন অনুস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১৪ জন।