মুখে বালিশ চেপে অচেতন অবস্থায় কিশোরীকে ধর্ষণের পর ফেলে যায় চৌবাচ্চায়

রাজধানীর পল্লবীর থার্টিন হার্টস ক্যাম্প এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আনোয়ার হোসেন সাঈদ (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন গাড়িচালক। ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে পল্লবী থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে কিশোরী বাসার বাইরের বাথরুম থেকে ফেরার সময় তাকে জোর করে নিজের ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে কিশোরীকে মারধর করা হয়। চিৎকারের চেষ্টা করলে তার মুখে বালিশ চেপে ধরা হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে ভবনের নিচতলায় পানির চৌবাচ্চার পাশে ফেলে রেখে যান অভিযুক্ত।

শনিবার ভোরে স্থানীয় এক ব্যক্তি অজু করতে গিয়ে কিশোরীকে অচেতন আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে আটক করেন। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, “ভুক্তভোগীর ভাইয়ের করা মামলার ভিত্তিতে আনোয়ার হোসেন সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।“

এদিকে শনিবার বিকেলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা পল্লবী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। সময় তারা কিছু সময়ের জন্য থানার সামনের সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ধর্ষণের পাশাপাশি কিশোরীকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, একই এলাকায় গত মে মাসে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই ঘটনার পর আবারও একই এলাকায় এমন অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।