টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রুমা উপজেলার কেউক্রাডং এলাকায় অর্ধশতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তবে থানচির নাফাখুম ও রেমাক্রি এলাকায় আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে থানচি সদর এবং পরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরিয়ে এনেছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে জেলার সাতটি উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩০ হাজার পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন তৎপরতা শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে হাজারো পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বাড়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সোমবার রুমায় অর্ধশতাধিক পর্যটক এবং থানচির নাফাখুম ও জিন্নাপাড়া এলাকায় আটকে পড়া ৯০ জনেরও বেশি পর্যটক ও গাইডকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে অভিযান চালায় প্রশাসন।
থানচির ট্যুরিস্ট গাইড মামুনুর রশিদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গাইডদের একটি প্রতিনিধি দল লাইফ জ্যাকেট ও ট্রলার নিয়ে রেমাক্রি ও নাফাখুম এলাকায় গিয়ে আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে থানচি সদরে নিয়ে আসে।
অন্যদিকে রুমা উপজেলার বগালেক থেকে কেউক্রাডং যাওয়ার পথে পেঁপে বাগান এলাকায় বড় ধরনের পাহাড় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে অর্ধশতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানান স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইড রুকন উদ্দিন।
এদিকে থানচির বিভিন্ন হোটেল ও কটেজে আটকে পড়া পর্যটকদের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় কটেজ মালিকরা মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন। শীলগিরি রিসোর্টের মালিক মং নু মার্মা জানান, পর্যটকদের কাছ থেকে কক্ষভাড়া নেওয়া হচ্ছে না এবং খাবারের বিলও অর্ধেক রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার আলীকদম-লামা সড়কের পানি কমে যাওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে থানচির সঙ্গে নৌ যোগাযোগ এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের আশা, বৃষ্টি কমে গেলে নিম্নাঞ্চলের পানি দ্রুত নেমে যাবে।
জেলার রুমা, থানচি, লামা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুর ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৯ মিলিমিটারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত বান্দরবানের সাত উপজেলার সব পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, সম্ভাব্য পাহাড় ধস ও প্রাণহানি এড়াতে জেলার সাত উপজেলায় মাইকিংয়ের পাশাপাশি ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আটটি মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রয়েছে।