বন্যার পানি কমতেই নতুন আতংক সাপ, কামড়ের শিকার ১১৮ জন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বন্যার পানি কমলেও বর্তমানে নতুন আতংক দেখা দিয়েছে সাপ। বন্যা শুরুর পর থেকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) পর্যন্ত সাপের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১৮ জন। তবে সাপের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও এখনো পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি বলে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। এদিকে, সাপে কাটা রোগীদের উজা-বৈদ্যের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে আহত হয়ে ১১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলায় ২৬, রাঙ্গুনিয়ায় আট জন, হাটহাজারীতে ১০ জন, সাতকানিয়ায় ছয় জন, চন্দনাইশে তিন জন, লোহাগাড়ায় দুজন, পটিয়ায় ১৮ জন, রাউজানে নয় জন, বাঁশখালীতে ২০ জন, আনোয়ারায় পাঁচ, সীতাকুণ্ডে তিন, ফটিকছড়িতে তিন, সন্দ্বীপে দুই, এবং মিরসরাই উপজেলায় তিন জন সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, “বন্যা শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১০ জন সাপে কাটা রোগী হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা দেওয়ার পর সবাই এখন সুস্থ আছেন। হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) মজুত রয়েছে।“

তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টির কারণে সাপগুলোর বাসা ভেঙে গেছে। এজন্য ঘরবাড়ি ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে। এ সময় চলাচলে সতর্ক থাকতে হবে। সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে। ওঁঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় মশারি টাঙাতে হবে। এ ছাড়া ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং অন্ধকারে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার করতে হবে।”

এদিকে, দেশের একমাত্র ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সমন্বয়ক ও গবেষক ডা. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ জানিয়েছেন, ২০২২-২০২৩ সালে করা এক জরিপে দেখা গেছে দেশে ১১০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ২১ প্রজাতির সাপ আছে বিষধর। দেখা গেছে সাপের কামড়ের শিকার হয় প্রতি বছর চার লাখ মানুষ। এর মধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষ মানুষ মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর এ সংখ্যা অনেক প্রাণঘাতি রোগের চেয়েও বেশি।’

তিনি আরও বলেন, “গ্রামের লোকজন এখনো সাপের কামরের শিকার হলে উজা-বৈদ্যুর কাছে যায়। বিভিন্নভাবে সময় নষ্ট করে। হাসপাতালে দেরি করে যাওয়ার কারণে বিষধর সাপের কামরের শিকার অনেক লোকজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়না।”

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বন্যার পানির কারণে সাপগুলো গর্ত থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বন্যা শুরুর পর থেকে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।“

তিনি বলেন, “সাপে কাটা রোগীদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ যে কোনও সরকারি হাসপাতালে গেলে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যাবে। চট্টগ্রামে ১১৮ জন সাপে কাটা রোগীর মধ্যে সবাই সুস্থ আছেন। আমাদের কাছে এক হাজার রোগী অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।”