রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলক্রসিংয়ে তেলবাহী ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কয়েকটি বগির ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় মাহিন্দ্রার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মনোয়ার পাটোয়ারী ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল মালেক নামে দুইজন মারা যান।
জানা গেছে, ফরিদপুর ধুলদি পাওয়ার প্লান্ট থেকে একটি তেলবাহী ট্রেন খুলনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রথমে ইঞ্জিনসহ বেশ কয়েকটি বগি নিয়ে রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলগেট পার হয় ট্রেনটি। পরে গেটম্যান রেললাইনের ব্যারিয়ার উঠিয়ে দিলে কিছু সময় পর মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বেশ কয়েকটি বগি এসে লেভেল ক্রসিং পার হতে থাকা মাহেন্দ্রা, অটোরিকশা ও একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় মাহেন্দ্রাকে প্রায় ১০০ গজ দূর ঠেলে নিয়ে যায় মালবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগিগুলো। এসময় দুমড়ে মুচড়ে যায় অটোরিকশাটি। এছাড়া বাসটিও ঠেলে নিয়ে যায় রেললাইনে। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় আটজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয় যায় যানবাহন চলাচল। পরে আহলাদিপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সরিয়ে নিলে স্বাভাবিক যান চলাচল হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মনোয়ার পাটোয়ারী ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল মালেক নামের দুইজন মারা যান।
রাজবাড়ী রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মালবাহী ট্রেনের গার্ডব্রেকসহ ২৬টি বিটিও (বগি) ছিল। চলন্ত অবস্থায় যেকোনো ভাবে ২১ ও ২২ নম্বর বগি মাঝ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ট্রেনটি। তবে কোথায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে জানা যায়নি। ট্রেনটি যখন এই রেলক্রসিং পার হয়ে চলে যায় তখন গেটকিপার ট্রেন শেষ ভেবে গেট খুলে দেন। মহাসড়কেও তখন যানবাহনের চাপ ছিল। হঠাৎ গেটকিপার দেখতে পান দূর থেকে কিছু একটা আসছে। ওই সময় তিনি গেট বন্ধ করার চেষ্টা করলেও পারেন নাই। ততক্ষণে দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষ ঘটনার কারণ জানা যাবে।”