স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীকে জিম্মি করে রেখে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে, এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারীর স্বামীকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নড়িয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে পূর্বপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি ওই নারীর স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান এবং একটি নির্জন স্থানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্ত্রীকে সেখানে ডেকে আনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান।

পুলিশ ভোরে অসুস্থ অবস্থায় নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়, যেখানে তিনি নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। একই দিন সকালে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাব্বি (২৮), হজরত আলী খন্দকার (৪২) ও ইমন খন্দকার (২৬) নামের তিনজনকে আটক করা হয়।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া জানান, প্রাথমিক তথ্যে ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ধর্ষণের অভিযোগে মামলা প্রস্তুতির কাজ চলছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার জানান, ভুক্তভোগীকে ভোরে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে। ঘটনা নিশ্চিতে সোয়াব ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

হাসপাতালের শয্যায় বসে ভুক্তভোগী নারী জানান, রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে রাখে, পরে তাকে ফোন করে নগদ অর্থ ও অলংকার নিয়ে সেখানে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন তার স্বামীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায়, এবং পরে তাকেও জোরপূর্বক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তিনি বাঁচার জন্য অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করা হয়।