ভূমি প্রতিমন্ত্রী: জনগণ প্রজাতন্ত্রের মালিক, তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে

সরকারি সেবা নিতে আসা জনগণকে প্রজাতন্ত্রের প্রকৃত মালিক হিসেবে বিবেচনা করে তাদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সেমিনার হলে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের (পেশকার) ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মীর হেলাল বলেন, “যারা সরকারি সেবা নিতে অফিসে আসেন, সেই জনগণই এ দেশের প্রকৃত মালিক। কাজেই আপনাদের অনুভব করতে হবে, এই জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এবং তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে।”

বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নবনিযুক্ত কর্মচারীদের “সবার আগে বাংলাদেশ” চেতনা ধারণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কোন ধরনের তদবির বা উৎকোচ ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় যারা সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।“

তিনি বলেন, “কোনও ধরনের তদবির ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে আপনারা যারা চাকরি পেয়েছেন এবং আপনাদের অভিজ্ঞতার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে।”

মীর হেলাল বলেন, “গত ২০ বছর ধরে দেশ দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত ছিল। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজের কারণে পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতির বোঝা টানতে হয়। তাই নবনিযুক্ত কর্মচারীদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে পরম সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।“

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা অনুসরণ করে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে।“

ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে এসে জনগণ যাতে কোনও ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে “সিটিজেন সার্ভিস” চালু করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের পক্ষে মোছা. ফারহানা খাতুন, মো. শিহাব উদ্দিন ও শাকিল আহমদ বক্তব্য দেন। তারা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত।

এ সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আবদুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জেড এম সালাহউদ্দিন নাগরীসহ ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।