আপ্যায়নের ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাবেক ইউএনওর বিরুদ্ধে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে আপ্যায়নের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিরুদ্ধে। উপজেলার একটি কনফেকশনারি ও ফলের দোকান থেকে ফাঁকা রশিদ সংগ্রহ করে নিজেদের ইচ্ছে মতো টাকার অংক বসিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে জানা গেছে। অডিটের সুযোগ থাকলেও বিল যাচাই-বাছাই না করেই এই অর্থ প্রদান করেছে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপ্যায়নের নামে চার ভাউচারে ৯০ হাজার টাকা ভুয়া বিলে বরাদ্দের টাকার পুরোটা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দোকানগুলোতে গেলে ভাউচারে উল্লিখিত তারিখে পণ্য ক্রয়ের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে ফাঁকা ভাউচার দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অপারগতার কথা স্বীকার করেন এসব দোকানিরা।

এসব রসিদগুলোর মধ্যে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে দুইটি ভাউচার রুমন বেকারি ও কনফেকশনারী থেকে ৭০০ ডিম প্যাটিস, ৩০০ প্যাকেট লেক্সাস বিস্কুট, ১০০ পিস কেক এবং একই তারিখে অপর দুইটি ভাউচারে উপজেলার বকুল ফল ভান্ডার থেকে ৪০ কেজি করে আপেল, আঙ্গুর, কমলা ও পেয়ারা ক্রয় উল্লেখ করা হয়। তবে সরেজমিনে গেলে মিরপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উক্ত তারিখে কোনো ধরনের পণ্য ক্রয়ের কথা অস্বীকার করেন এসব দোকানিরা।

স্থানীয় রুমন বেকারি ও কনফেকশনারীর কর্মচারী জনি মণ্ডল বলেন, “ইউএনও অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে ফাঁকা ভাউচার সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। তবে ইউএনও অফিস থেকে ওই মাসে কোনো অর্ডার ছিল না।”

অপর দোকানি স্থানীয় বকুল ফল ভান্ডারের মালিক মো. রাব্বি বলেন, “ইউএনও অফিস আমাদের কাছ থেকে এতো টাকার ফল একসঙ্গে কোনদিন কেনেনি। ওরা অনেক সময় আমাদের কাছ থেকে ব্লাং (ফাঁকা) ভাউচার নিয়ে যায়। এরপর ওদের মতো করে বিল করে নেয়।”

দোকান থেকে ফাঁকা ভাউচার নিয়ে আসার বিষয়ে উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক জামিরুল বলেন, “আমরা ছোট কর্মচারী। আমাদের যেটা বলে, আমরা সেই দায়িত্বটা পালন করি।”

তবে দোকান থেকে ফাঁকা ভাউচার নিয়ে আসার বিষয়টি অস্বীকার করেন এই কর্মচারী।

এদিকে অফিস অডিটের মাধ্যমে বিল ভাউচারের সত্যতা যাচাই এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন প্রসঙ্গে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা মঞ্জিলা আফরিন বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ভুয়া বিল ভাউচারে টাকা আত্মসাতের বিষয় জানতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

নাজমুল ইসলামের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর বলেন, “প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মালিক আমি না। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। যিনি চলে গেছেন শুধু তিনিই নন, যারা আছেন, ভবিষ্যতে আসবেন কেউ দুর্নীতি না করুক, এটি আমি প্রতিটি মিটিংয়ে তুলে ধরেছি।”

প্রসঙ্গত, নাজমুল ইসলাম বর্তমানে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।