বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফেরার পথে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ডুবে গেছে বরগুনার তালতলীর “এফবি জান্নাত-জুনায়েদ” নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১৩ জেলের মধ্যে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও দুজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার। এর আগে সকাল ৮টার দিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিখোঁজ দুই জেলে হলেন তালতলীর বড়বগী ইউনিয়নের মনির হোসেনের ছেলে মো. রাকিব (১৯) এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের হরমুজ আলী হাওলাদারের ছেলে নবী হোসেন (৪৫)। উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে ছয়জন তালতলীর, চারজন কলাপাড়ার এবং একজন খুলনার বাসিন্দা।
জানা যায়, আল-আমীন ও গোলাম রাব্বির যৌথ মালিকানাধীন ট্রলারটি গত শনিবার রাতে মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জেলে নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যায়। সোমবার সাগরের আবহাওয়া খারাপ হয়ে ওঠায় জেলেরা উপকূলের দিকে ফিরতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে কুয়াকাটা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। এ সময় কাছাকাছি থাকা অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এগিয়ে এসে ১১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে নিরাপদে উপকূলে ফিরিয়ে আনে।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের মালিক আল-আমীন জানান, ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি হঠাৎ উল্টে গেলে ১১ জন সাঁতরে বেরিয়ে আসতে পারলেও কেবিনে আটকা পড়েন দুজন। সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ইউএনও অতীশ সরকার বলেন, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃতদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।“



