জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, আগামী রবিবার প্রশাসনের কাছে পদত্যাগপত্রের লিখিত কপি জমা দেবেন।
এর আগে, গত বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে জুলাই আন্দোলন উপলক্ষে জাকসু আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজাসহ কয়েকজনের সঙ্গে জিসানের তর্কাতর্কি হয়। উপস্থিত অন্য ছাত্রদল নেতারা সেলিম রেজাকে নিবৃত্ত করেন। ওই ঘটনার পরদিনই জিসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।
এ বিষয়ে জিসান বলেন, ক্ষমতার চেয়ে আত্মমর্যাদা তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্মান ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না থাকায় তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পরে দেওয়া আরেকটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে শেখ জিসান আহমেদ তার পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার তার সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক নির্বাচন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। টিএসসির শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে উপস্থাপক চূড়ান্ত করার পরও প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে নতুন করে উপস্থাপক যুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে গিয়ে তিনি দেখেন, তার সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই আরও কয়েকজনকে উপস্থাপক করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিবর্তন রাজনৈতিক স্বার্থে করা হয়েছে, যার ফলে কয়েকজন উপস্থাপক অপমানিত বোধ করেন এবং কেউ অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান।
জিসান আরও অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান চলাকালে তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকজন ছাত্রনেতার নাম মাইক্রোফোনে ঘোষণা করতে চাপ দেওয়া হয়। পরে সেই নাম ঘোষণা করার পর উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় তাকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতেও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে তিনি লিখেন, নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক হয়েও তাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, "আমি একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে এগুলো সহ্য করবো? শিক্ষার্থীদের সম্মান আমার সম্মান না?"
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতের প্রথম পোস্টে শেখ জিসান আহমেদ লিখেছিলেন, তিনি কখনও রাজনীতি করেননি এবং ভবিষ্যতেও রাজনীতিতে আসবেন না। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো আগ্রহও তার নেই।