কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক বাড়ির মালিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ ৯ টুকরা করে পলিথিনে মুড়ে বাসার পেছনে ফেলে রাখে ঘাতকরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে বিক্ষুব্ধ জনতা, পরে মারধর করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। বাড়ির একটি ঘর ভাড়া দেওয়া ছিল লাইলী আক্তারের কাছে।
শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যায় ফরিদা ইয়াসমিনের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনের কয়েকটি প্যাকেটে খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
রাত সাড়ে সাতটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ফরিদার টুকরো করা মরদেহের প্যাকেট উদ্ধার করে এবং লাইলী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। লাইলী আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে, তবে পা ও মাথা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। আটক লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।