ইসি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে করতে একগুচ্ছ সংশোধনী এনে আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করে ভেটিং (বৈধতা) করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকবে না বলে জানিয়েছে ইসি। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল-বিলবোর্ড কোন সাইজের হবে, তা নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসি। 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ—এ পাঁচ আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। 

সোমবার (১০ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকারের ৫ স্তরের নির্বাচনের আচরণবিধি ইসির অনুমোদন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।’’ 

গত জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন পাসের পরে আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় ইসি। 

এর আগে, গত জুনে আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়, এ নিয়ে মতামতও নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের জন্য এবার নতুন করে নির্বাচন আচরণ বিধিমালা হচ্ছে। 

সচিব আখতার আহেমদ জানান, খসড়া যেভাবে প্রকাশ হয়েছিল, প্রায় একই রকম রাখা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শব্দগত পরিমার্জন-সংযোজন হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পোস্টার বাদ দিয়ে প্রচারণার অন্য বিষয়গুলো রাখা হয়েছে। ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, এসব নির্বাচনে পোস্টার বাদ দিয়ে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ইউপি ভোটে প্রতি ওয়ার্ডে নির্ধারিত পরিমাপে একটি করে; উপজেলা ভোটে সর্বোচ্চ ২০টি ও জেলা পরিষদে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। 

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদের সংজ্ঞায় অন্যদের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সিটি, উপজেলা, পৌর, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে প্রচারণায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখার পাশাপাশি এআইয়ের অপব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণার খরচও দেখাতে হবে নির্বাচনী ব্যয়ে। আচরণবিধি লঙ্ঘনে জরিমানা বাড়িয়ে সবক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। 

এছাড়া মাইকে প্রচারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। 

ভোটের সময় নির্বাচন পরিচালনার কাজে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সার্কিট হাউস, রেস্টহাউস ও ডাকবাংলো ব্যবহারে অগ্রাধিকারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে সব আচরণবিধিতে।

নির্বাচনে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুনের পাশাপাশি বিলবোর্ডের আকার-আয়তন কেমন হবে তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রচারসামগ্রী হবে সাদা-কালো রঙের। ভোটের প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।