ভারত থেকে দেশে আসছে ১৯ রেল কোচ

ভারত থেকে আনা নতুন প্রজন্মের ১৯টি লিংকে হফম্যান বুশ (এলএইচবি) কোচ যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে। 

বুধবার (১২ আগস্ট) ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি প্রথম রেকটি কারখানা ছাড়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা ও পরিচালনব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে এসব কোচ তৈরি করা হয়েছে। প্রথম রেকে থাকবে তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ, ১১টি সাধারণ চেয়ার কোচ এবং দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোচ।

২০২৪ সালে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের একটি চুক্তি করে বাংলাদেশ। ৯১৫ কোটির রুপির এই চুক্তিটির আওতায় দেশটির কাপুরথালার রেল কোচ কারখানায় মোট সাত ধরনের কোচ তৈরি করা হচ্ছে।

প্রথম রেকটি দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হবে। সেখানে কোচগুলোর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কারিগরি যাচাই শেষে যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

যদিও এবারই এবারই প্রথম এলএইচবি কোচ আসছে না। এর আগে ২০১৫-১৬ সালে ভারতীয় রেল কোচ কারখানা বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করে। 

যা যা থাকছে নতুন কোচগুলোয়

কোচগুলোয় স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পাদানি, হেলানো যায় এমন আসন এবং আংশিক খোলা জানালাও রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে। এতে  ফ্যানের পাশাপাশি সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ও যাত্রী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকবে।

শিশু পরিচর্যার জন্য আলাদা কক্ষ এবং নামাজের কক্ষের ব্যবস্থাও থাকছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় কোচগুলোর ছাদও শক্তিশালী করা হয়েছে। ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠার ঝুঁকি কমানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

নিরাপত্তার দিক থেকেও কোচগুলোতে আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় মান ইএন ১৫২২৭ অনুযায়ী সংঘর্ষের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি নিরাপদ করে কোচগুলো তৈরি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে মূল কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন কোচগুলো কোন ট্রেনে যুক্ত করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো দিয়ে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে, নাকি পুরোনো কোনো ট্রেনের কোচ পরিবর্তন করা হবে সেটিও নির্ধারণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, নতুন কোচ পাওয়ার পর বিভিন্ন রুটে নতুন রেক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম রেকের কোচ দিয়ে নতুন যাত্রীসেবা চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করার আগে কোচগুলোর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এরপর রুট ও ট্রেনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।