Wednesday, August 12, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কাপ্তাই জেটিঘাট লেকে কচুরিপানা জমে বোট চলাচলে বাধা

বোটচালকরা জানান, এখন ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে ঘণ্টারও বেশি সময়

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই জেটিঘাট সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথে কচুরিপানার স্তূপ জমে থাকায় ইঞ্জিনচালিত বোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রী, বোটচালক ও মাছ ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ নৌঘাট, বিএফডিসি প্লাটুন ঘাট ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কচুরিপানা জমে রয়েছে।

ফলে অনেক নৌযান ও মাছবাহী বোট স্বাভাবিকভাবে ঘাটে ভিড়তে পারছে না। একইভাবে ঘাট থেকে বোট ছাড়ার সময়ও চালকদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কচুরিপানা পরিষ্কার করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও নতুন করে জমা হচ্ছে।

বিলাইছড়িগামী যাত্রী মো. ওসমান, সুইনু মারমা ও আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, জেটিঘাট থেকে সামনের প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথ কচুরিপানায় ভরে গেছে। এই সামান্য পথ পাড়ি দিতেই কখনও কখনও প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে।

বোটচালক মো. মাইন উদ্দীন, মো. জাকির হোসেন ও নুর নবী জানান, জেটিঘাটে নৌযান চলাচলের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কচুরিপানা। স্রোতের কারণে প্রতিনিয়ত ঘাট এলাকায় কচুরিপানা জমছে। ফলে মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে প্রতিদিন বোটের পাখা (প্রপেলার) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত মেরামত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

এদিকে, কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন জানান, জেটিঘাট এলাকায় সাধারণত কচুরিপানা জন্মায় না। বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর এলাকার লেক থেকে স্রোতের টানে এসব কচুরিপানা ভেসে এসে জমা হয়। এতে মাছবাহী বোটগুলো ঘাটে আসতে এবং মাছ ওঠানামা করতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

তারা আরও জানান, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদনের সময় কর্ণফুলী নদীতে পানি প্রবাহিত হয়। এ সময় সৃষ্ট স্রোতের সঙ্গে উজান এলাকার কচুরিপানা ভেসে এসে কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় আটকে যায়। বিগত বছরগুলোতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বড় ট্রলারের দিয়ে কচুরিপানা পরিষ্কার করেছে। এবারও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে লেক থেকে কচুরিপানা অপসারণ করা জরুরি।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “প্রতিবছর এ সময়ে কাপ্তাই লেক থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়। নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও উজান থেকে নতুন করে কচুরিপানা ভেসে আসায় স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী, মাছ ব্যবসায়ী ও নৌযানচালকদের দাবি, কাপ্তাই লেকভিত্তিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় নৌযান চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

   

About

Popular Links

x