বাবার মরদেহ ঘরে রেখে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্যাসগাছা গ্রামে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন দুই সহোদর।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে এই ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বৃদ্ধের দাফন সম্পন্ন হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম আবদুল খালেক মান (৯০)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চার-পাঁচ বছর আগে তার বড় ছেলে মাহাবুর রহমান মান বাবার বসতবাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানসহ সব সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন এবং পরে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নতুন বাড়ি করে সেখানে চলে যান। এরপর গ্রামের মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় ছোট ছেলে আছাবুর রহমান বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পুরোনো বসতবাড়ি ও কবরস্থান কিনে সেখানে ঘরবাড়ি তুলে বসবাস শুরু করেন।

জীবনের শেষদিকে অসুস্থ আবদুল খালেক থাকতেন বড় ছেলে মাহাবুরের কাছে। সোমবার সকালে তার মৃত্যু হলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে যান মাহাবুর। কিন্তু জমির মালিকানার সূত্র ধরে বাধা দেন ছোট ভাই আছাবুর। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে দুই ভাই ও তাদের স্বজনরা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে আহত হন মাহাবুর রহমান, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম, মেয়ে লিলিমা খাতুন এবং আছাবুর রহমান ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম।

সংঘর্ষের জেরে কিছু সময়ের জন্য বৃদ্ধের দাফন অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুরোনো পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেকসানা খাতুন জানান, জমি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ ঘরে রেখেই দুই ভাই সংঘর্ষে জড়ান, যাতে দুই পক্ষের অন্তত চারজন আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।