Monday, August 24, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রংপুরের চার খুন: আদালতে জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ

হত্যার দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৬ এএম

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। রবিবার বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হলে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৩) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পাশের ভবন দিয়ে ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। শব্দ পেয়ে গণপতি ছাদে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে প্রার্থীকেও একইভাবে হত্যা করা হয়, পরে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানান তিনি।

হত্যার পর অভিযুক্তরা বাসায় গোসল করে, খাবার খায় এবং কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে একটি মন্দিরের পেছনে লুকিয়ে রাখে, যা পরে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখা এবং আঙুলের ছাপ মুছতে মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পানিতে ভিজিয়ে রাখার তথ্যও জানান পুলিশ কমিশনার।

নিহতদের মুখ ঝলসানো নিয়ে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে রংপুর মেডিকেলের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, মরদেহ পচে যাওয়ার কারণেই এমন দেখাচ্ছিল, রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি। তবে সিআইডি জানিয়েছে, চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করতে প্রায় এক মাস আগে প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা তুলেছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। তবে মামলার বাদী ও তার বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী জানান, এই টাকা সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না, ব্যাংকে খোঁজ নিলে তথ্য পাওয়া যাবে।

   

About

Popular Links

x