রংপুর মহানগরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৩ আগস্ট) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াতেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যা জানা গেলো
বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ টপকে গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিল।
মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে যান গণপতি চক্রবর্তী। তিনি তাদের দেখতে পেয়ে তাদের উপস্থিতির কারণ জানতে চান। েএসময় সাবেক ওই শিক্ষকের গলায় গামছা ছিল।
গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির ভাষ্যমতে, ওই গামছা দিয়েই গণপতিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা। এসময় শব্দ শুনতে পেয়ে প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে উঠছিলেন। তাকেও সেই গামছা দিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, মা-বাবার চিৎকারের আওয়াজ শুনে মেয়ে বেরিয়ে আসায় তাকেও হত্যা করে গ্রেপ্তার দুইজন।
১১ বছরের প্রিয়মকেও হত্যা
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়মকে (১১) হত্যাকারীরা চিনতো। গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে একইসঙ্গে খেলাধুলা করত প্রিয়াম। সে বেঁচে থাকলে তাদের চিনতে পারবে এ কারণে দুজন মিলে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে শিশুটিকে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে শেষে তারা বালিশ চাপা দেয়।
হত্যার পর খেজুর, শসাও খায় হত্যাকারীরা
পুলিশ কমিশনার জানান, চারজনকে হত্যার পর প্রথমেই ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খায়। এরপর ছোট ছেলে প্রিয়মের বাথরুমে গিয়ে গোসল করে তারা।
পরে ডাইনিং টেবিলে বসে বয়াম থেকে খেজুর বের করে খেয়ে ইয়াবা সেবন করে তারা।
পুরো ঘটনাকে ডাকাতি হিসেবে সাজানো হয়
পুরো ঘটনাকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ফেলে। জানা গেছে, গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ আট বছর স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করে। ফলে লুটপাটের সময় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে একটি চুড়ির স্বর্ণ যাচাই করে তারা। পরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে ওই বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানির বালতিতে ভিজিয়ে রাখে।
পুলিশ জানায়, লুট করা স্বর্ণালঙ্কারগুলো মন্দিরের পেছনের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় স্বর্ণালংকারগুলো লুকিয়ে রেখেছিল তারা। যা পরে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনাটি ডাকাতি না হত্যা, তা নিয়ে বেশ দ্বিধায় ছিল পুলিশ। বিশেষ করে ঘটনাস্থলে পাওয়া ইয়াবা সেবনের আলামত, অর্ধেক খাওয়া শসা এবং আগুন দিয়ে পোড়ানো স্বর্ণের চুড়ি দেখে বুঝতে পারেন, এই ঘটনায় স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ কেউ জড়িত আছে।
সিদ্ধার্থ স্বর্ণকারের দোকানে কাজ করতেন। এখান থেকেই সন্দেহ হয় সিদ্ধার্থকে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করে আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করার কথাও জানান তিনি।



তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকতেই মিললো একই পরিবারের ৪ সদস্যের মরদেহ