Sunday, August 23, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রংপুরে চারজন হত্যা: মুখে তরল পদার্থ, রাসায়নিক ব্যবহারের সন্দেহ সিআইডির

এই তরল কোনো রাসায়নিক কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নিহতদের সবার মুখেই ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে এবং মুখের কাছে তরল পদার্থের অস্তিত্ব মিলেছে বলে জানিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তবে এই তরল কোনো রাসায়নিক কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রংপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, নিহতদের শরীরে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না তা ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৬) ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ তাদের নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। রবিবার ঘটনায় নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রীতিলতার ফোন থেকে তার বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এরপর শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার রাতে বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে সন্দেহবশত স্বামীকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান পূজা। প্রতিবেশীর ছাদ দিয়ে গিয়ে জানালার তালা ভেঙে ঘরে উঁকি দিলে জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান এবং ভেতর থেকে দুর্গন্ধ পান তিনি। পুলিশের ধারণা, ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস (২৩) সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পাশের ভবন দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিলেন এই দুজন। শব্দ শুনে গণপতি বাধা দিতে গেলে তাকে হত্যা করা হয়, এরপর চিৎকার শুনে ছাদে যেতে চাওয়া স্ত্রী প্রীতিলতাকে সিঁড়িতেই হত্যা করা হয়, এবং পরিচয় ফাঁসের আশঙ্কায় পরিবারের বাকি দুই সদস্যকেও হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম নাজমুল কাদের জানান, রবিবার ভোরে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

   

About

Popular Links

x