বিয়ের কাবিননামায় বর-কনের আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন দায়ের করেন।
রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২০ আগস্ট এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৯৭৪’ অনুযায়ী প্রতিটি বিয়ে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। তবে বর্তমানে প্রচলিত মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালার ১৬০১ নম্বর ফরম বা ‘ঘ’ ফরমটি (নিকাহনামা) অসম্পূর্ণ। এই ফরমের ৫ নম্বর কলামে কন্যা কুমারী, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা কিনা—সেই তথ্য চাওয়া হলেও বর বা কনের আগে মোট কয়টি বিয়ে হয়েছিল, সেই তথ্য দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট ঘর নেই। এ ছাড়া ২১ নম্বর কলামে বরের বর্তমান স্ত্রী আছে কিনা জানতে চাওয়া হলেও আগের বিয়ের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস বা সন্তানদের বিষয়ে কোনো তথ্য চাওয়া হয় না।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “তথ্যের এই অসম্পূর্ণতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই আগের বিয়ে বা পরিবারের তথ্য গোপন করে নতুন বিয়ে করছেন। অনেকে একটি ডিভোর্সের তথ্য দিয়ে পূর্বের একাধিক বিয়ের কথা লুকিয়ে যাচ্ছেন। বিয়ের পর যখন আগের অসংখ্য বিয়ের কাগজপত্র বা সন্তানদের তথ্য বেরিয়ে আসে, তখন নতুন জীবনসঙ্গী প্রতারিত হন এবং বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কাবিননামায় আগের বিয়ের সংখ্যা, ডিভোর্সের তারিখ এবং সন্তানদের ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বের দায়-দায়িত্বের তথ্য উল্লেখ করার বাধ্যতামূলক ঘর থাকত, তবে কোনো পক্ষই তথ্য গোপন করতে পারত না। এতে বিয়ে নিয়ে প্রতারণা ও সামাজিক হয়রানি অনেকাংশেই কমে আসত।”
রিট আবেদনে কাবিননামায় কয়েকটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—বর ও কনের আগের বিয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও সংখ্যা। তালাক হয়ে থাকলে তার সঠিক তারিখ ও নিবন্ধন এবং পূর্বের সংসারে কোনো সন্তান থাকলে তাদের সংখ্যা ও তথ্য। সন্তানদের ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্ব নিয়ে চলমান কোনো আইনি দায়বদ্ধতা আছে কিনা সেই তথ্য। এ ছাড়াও বর-কনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তের জন্য কাবিননামার ফর্মটি রিভাইজ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ইদ্দত পালনের সময়সীমা নিশ্চিত করতে ডিভোর্সের সঠিক তারিখ জানা থাকা প্রয়োজন। এই পরিবর্তনগুলো আনা হলে বিয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন নাগরিকরা।
আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।