বিয়ের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে কাবিননামায় বর-কনের আগের বিয়ে, বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান নিজে আবেদনকারী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দাখিল করেন।
রিটে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ে, সন্তান, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায়ের তথ্যের পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত ও তা যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ (‘ফরম ঘ’) এ বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী-স্ত্রী, বিয়ে-তালাক নিবন্ধন, সন্তান এবং পূর্ববর্তী সম্পর্ক থেকে সৃষ্ট আইনগত দায়দায়িত্ব সমানভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। বরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ত্রী ও সালিসি পরিষদের অনুমতি সংক্রান্ত কিছু তথ্য থাকলেও আগের বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী বা সন্তানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। কনের ক্ষেত্রেও একই রকম ঘাটতি রয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে নতুন বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যক্তির সঠিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বিদ্যমান স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকারও।
রিটে প্রার্থনা করা হয়েছে, কাবিননামার ওই ফরম সংশোধন ও হালনাগাদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং ফরমটি সংশোধন-হালনাগাদের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হোক।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে। আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে।