মায়ের অপহরণ করে হত্যা মামলার দেড় মাস পর জীবিত উদ্ধার মেয়ে

খুলনার দাকোপ থেকে অপহরণ করে হত্যা মামলার ভিকটিমকে দেড় মাসের মাথায় ঢাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তদন্তের পর ঢাকা থেকে ভিকটিমকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। গত ১১ জুলাই ঘটনার পর ৩ আগস্ট মামলা হয়।

জানা গেছে, খুলনা জেলার কয়রা থানার নাকশা এলাকার আয়শা খাতুনকে (৩৬) তার স্বামী ইসলাম সরদারসহ তিনজন পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ করে হত্যা করে মৃতদেহ গুম করেছেন বলে ভিকটিমের মা মোছা. আমেনা খাতুন (৪৯) বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত কয়রা থানায় একটি সিআর মামলা দায়ের করেন।

মামলায় এজাহারে বলা হয়, ভিকটিমের স্বামী ইসলাম সরদারসহ অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১১ জুলাই ভিকটিমকে কয়রা থানাধীন মসজিদকুড় ব্রিজের উপর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে অপহরণ করেন এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না পেয়ে আসামিরা ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে আশঙ্কা করে বাদী ৩ আগস্ট সিআর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত উক্ত সিআর মামলা পিবিআই, খুলনাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম রাজীব রায়হান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিম আয়শা খাতুনের অবস্থান শনাক্ত করেন। তিনি জানতে পারেন, ভিকটিম আয়শা খাতুন ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে ২৭ আগস্ট সকাল ৮টায় ভিকটিম আয়শা খাতুনকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণেরর জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হলে আয়শা খাতুন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত এবং ভিকটিমের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, আয়শা খাতুনের স্বামী ইসলাম সরদারের সঙ্গে ১২ বছর আগে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। ফলে আয়শা তার স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না বলে পরিবারকে জানান। কিন্তু আয়শার বাবা-মা তাকে বুঝিয়ে জোর করে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এ কারণে প্রায় দেড় মাস আগে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। এ সময় তার মা মোছা. আমেনা খাতুন মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে পিবিআই, খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) রেশমা শারমিন বলেন, “অপহরণ করে হত্যা মামলার ভিকটিমকে দ্রুততার সঙ্গে জীবিত উদ্ধার করায় পিবিআইয়েরে উপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।“