Friday, August 28, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুধে ২০টি ঘুমের ওষুধ, এরপর কাস্টমস কর্মীকে হত্যা; মরদেহ ১৫ টুকরা

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেনের আদালত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮ এএম

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মী আবু রায়হান তালুকদার (৪০) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের বরাতে জানা গেছে, টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা (১৯) পরিকল্পিতভাবে রায়হানকে হত্যা করেন এবং পরে সহযোগী সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে (২০) ডেকে এনে মরদেহ গুম করেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে দুজনকে ময়মনসিংহের আদালতে হাজির করা হলে জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেনের আদালত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিহত আবু রায়হান তালুকদার ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, রাজু মির্জা প্রায় চার বছর ধরে রায়হানদের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছিলেন এবং রায়হানের মায়ের দেখাশোনাও করতেন। দীর্ঘদিন পরিবারটির সঙ্গে থাকার সুবাদে তিনি তাদের আর্থিক লেনদেন ও মূল্যবান সামগ্রী সম্পর্কে জানতেন।

জবানবন্দি অনুযায়ী, টাকার লোভে ২৪ জুলাই রাতে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজু। তিনি রায়হানকে ওষুধ মিশ্রিত পানীয় পান করান এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়লে হত্যা করেন। এরপর ঘরে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নেন।

রাজু রায়হানের ব্যবহৃত আইফোন ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং রায়হান নিখোঁজ থাকাকালে তার মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তোলেন। মরদেহ অপসারণে তিনি বন্ধু সোহেল মির্জার সহায়তা নেন এবং হত্যার আলামত মুছতে ঘর পরিষ্কার করা হয়।

নিখোঁজের ৯ দিন পর, ২ আগস্ট বিকেলে রায়হানের বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪ আগস্ট নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার রাজু টাকার লোভে একাই রায়হানকে হত্যা করেন এবং পরে মরদেহ গুমে বন্ধুর সহযোগিতা নেন। এখন পর্যন্ত এই দুজন ছাড়া আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই নিহতের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে দেওয়ায় আসামিরা বেশি টাকা তুলতে পারেননি। দুজনই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

   

About

Popular Links

x