Thursday, August 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পরিবারসহ আত্মগোপনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী, ঘরের মালামাল সরানোর আলামত

সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি জানান চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

চাঁদপুরে পরিবারসহ আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের ভাড়া বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছে পুলিশ। এ সময় কক্ষের মালামাল অগোছালো অবস্থায় পাওয়া যায়; পুলিশের ধারণা, ঘরের জিনিসপত্র আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি জানান চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে আছেন পিন্টু দাস। তিনি চাঁদপুর শহরের হোল্ডিং নম্বর-৫৮, সৌরভিলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। এর আগে থেকেই কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। আত্মগোপনে থাকা পরিবারের সদস্যরা হলেন পিন্টু দাস, স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাস। তার আদি বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হলেও কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে তাদের আত্মীয়স্বজন রয়েছে। তিনি চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয় নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের বন্ধকি ব্যবসা করতেন পিন্টু দাস। মানুষের স্বর্ণ বন্ধক রেখে তা আর ফেরত দিতে পারছিলেন না তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন সমিতি থেকে ব্যবসার নামে ঋণ নিয়ে ক্রমেই ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন। একাধিকবার দোকান স্থানান্তরের পর সবশেষে মদিনা মার্কেটের নিচতলায় ব্যবসা চালাতেন তিনি, যেখানে বন্ধক রাখা স্বর্ণের মূল্যের মাত্র চার ভাগের এক ভাগ টাকা তিনি গ্রাহকদের দিতেন।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খানের অভিযোগ, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার পিন্টুর কাছে ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রাখেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ আনতে গেলে পিন্টু তাকে পরদিন আসতে বলেন। পরদিন গিয়ে দেখেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ, আর জানতে পারেন পিন্টু সপরিবারে উধাও হয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।

এ ছাড়া দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টুর কাছে বন্ধক রেখেছিলেন, যা তিনি ফেরত দেননি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, আজ বাড়ির মালিকের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে পিন্টুর কক্ষে প্রবেশ করে পুলিশের একটি দল। রুমের মালামাল সরিয়ে ফেলার আলামত পাওয়া গেছে, যাতে ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গেছেন। তাকে খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চাঁদপুর জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার বলেন, “ঋণের চাপেই পিন্টু পালিয়ে গেছেন। তিনি বাজুসের একজন সাধারণ সদস্য।”

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, “ঋণের চাপেই পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিজ থেকে আত্মগোপনে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে খুঁজে পেলেই প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে।”

   

About

Popular Links

x