বরিশালের মুলাদীতে মসজিদের মাইক চুরির সন্দেহে রমজান মিয়া (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ আহত রমজানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত রমজান মিয়া হোসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ৮টার দিকে একই এলাকার সালাম হাওলাদার ও বেল্লাল শেখ রমজানকে তার বাড়ি থেকে ডেকে গ্রামের একটি স্থানে নিয়ে যান, যেখানে আগে থেকেই ১০ থেকে ১৫ জন অবস্থান করছিলেন। রমজানের স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে তার ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হলে সাময়িকভাবে মারধর থামানো হলেও পরে আবার তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি স্বজনদের। স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাটি দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে মুলাদী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত রমজানকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। পরিবারের দাবি, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন রমজানের নানা। তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে মুখ খুললে বা সাক্ষ্য দিলে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের কয়েকজন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তবে গণপিটুনির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সালাম হাওলাদার। তার ভাষ্য, স্থানীয় মসজিদের মাইক চুরির বিষয়ে রমজানকে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, “৯৯৯ এ ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।