জামালপুরের মাদারগঞ্জে পৃথক ঘটনায় রুপসী আক্তার (২৫) নামে এক তরুণী ও সামিউল ইসলাম ওরফে ফকির আলী (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ এলাকার একটি সেচপাম্পের ভেতর থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার জাঙ্গালিয়া পূর্বপাড়া এলাকার একটি দোকান থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে রোপা আমন ক্ষেতে পানি দিতে হান্নানের সেচ পাম্পে যায় স্থানীয় এক কৃষক। এ সময় সেচপাম্পের ঘরে খাটের উপর এক তরুণীর মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে তিনি এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানালে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায় ঘটনাস্থল থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত রুপসী আক্তার মাদারগঞ্জ উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকার ছাইর উদ্দিনের মেয়ে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার জাঙ্গালিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় নিজের দোকান থেকে ব্যবসায়ী সামিউল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, সামিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসা করতেন। তিনি দোকানেই রাত্রিযাপন করতেন এবং সেখানে রান্নাবান্না করে খাবার খেতেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার দিবাগত রাতে খাবার খেয়ে দোকানের ভেতর ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
বৃহস্পতিবার সারাদিন দোকান বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে রাতে নিহতের ভাই রিক্সন দোকানে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি দোকানের তালা ভেঙে শাটার খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় দোকানের মেঝেতে সামিউল ইসলামের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ব্যবসায়ী সামিউল ইসলাম একই এলাকার মৃত হরমুজ আলীর ছেলে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায় জানান, মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই তরুণীকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ব্যবসায়ী মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের কেউ অভিযোগ না দিলেও একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



