‘হত্যাকারীদের টার্গেট ছিলেন না, পুলিশ পরিচয় দেওয়াতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে হামলাকারীরা’

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আরও আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

একে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছে সংস্থাটি। সংস্থাটি বলছে, অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশ সদস্য আলতাব হোসেন হামলাকারীদের ‘টার্গেট’ ছিলেন না।

বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করতে দেখে আলতাফ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। এতে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় সব আসামিই মাদকাসক্ত ছিল।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।

তাদের মধ্যে র‌্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে চারজনকে এবং র‌্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহমেদ ও মো. ওয়াসিম।

এর আগে, এ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।

গত ৫ আগস্ট আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ৫৮ বছর বয়সী এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে একটি প্রাইভেটকারের চালক ও তার সহযোগীরা মারধর করছিলেন। আলতাফ হোসেন এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্যারেজে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করা হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে আলতাফ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরকারীদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আলতাফ নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

জীবন বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলে আরিফুলের মালিকানাধীন একটি পোশাক কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে সেখানে যায় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। পরে তারা কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তারা। এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাব-১০ জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, আপন কিশোর গ্যাংয়ের একজন দলনেতা এবং মাদক সরবরাহকারী। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

তিনি জানান, হামলার সময় আপন স্টিলের পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফের মাথায় আঘাত করে। আর জিহাদ ছুরি দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন। ঘটনার সময় সব আসামিই মাদকাসক্ত ছিল।

তিনি আরও বলেন, “বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করতে দেখে আলতাফ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। এতে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।”