রাজধানীর ফার্মগেটে একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ভিআইপি প্রটোকলে প্রবেশের চেষ্টা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মহিবুল্লাহ মুবিন (২৯) নামে এক যুবককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তেজগাঁও থানায় দায়ের করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরটি অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের পরপরই মুবিন নামের ওই যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে বাম দিকের লেন দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা চালান। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন এবং আটক করে তেজগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরবর্তীতে তেজগাঁও থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই আসাদুর রহমান আসামি মুবিনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান।
আজ শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “ঘটনাটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বা নাশকতার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে ঝুঁকিতে ফেলতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামিকে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।” রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে, আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল আলম জুয়েল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করে বলেন, “আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং অনভিপ্রেত আবেগের বশে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার মামা-চাচারা বরিশালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আসামির কাছ থেকে কোনো অস্ত্র বা ক্ষতিকারক বস্তু পাওয়া যায়নি। সন্দেহের বশে গ্রেপ্তার করায় তার রিমান্ড বাতিলের আরজি জানাচ্ছি।”
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামি মুবিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় মুবিন দাবি করেন, তিনি কেবল প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি তোলার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন, অন্য কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য তার ছিল না।



