রাজশাহীতে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও খুচরা বাজারের সার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় কৃষকরা। এ সময় বানেশ্বর বাজারের পাশে রাজশাহী-ঢাকা রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে প্রায় তিন শতাধিক কৃষক মহাসড়ক অবরোধ করেন। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত বাস, ট্রাক আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

কৃষকরা জানান, রোপা আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় হলেও স্থানীয় ডিলারদের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না তারা। উল্টো অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিন সকালে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে সার ডিলারের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন দিয়েও সার না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কৃষকরা। পরে তারা বানেশ্বর বাজারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন।

আন্দোলনরত পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম (৪৫) বলেন, “আমন ধানের গাছে এখনই সার দেওয়ার সময়। তিন দিন ধরে বানেশ্বর বাজারে ঘুরছি, ডিলার বলে সার নাই। কিন্তু বাজারের খুচরা দোকানে বেশি টাকা দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি দামে সার না পেলে আমাদের না খেয়ে থাকা লাগবে।”

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫০) বলেন, “ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ১০টার সময় ডিলার ওছমান আলী বলে সার শেষ। আমরা সার না পাইলে জমি রক্ষা করবো কেমনে? সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটা চলছে, এর বিচার চাই।”

কৃষকদের দাবি, পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

সংবাদ পেয়ে বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, “অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ করা হবে।”

তবে কৃষকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সার ডিলার এবং রাজশাহী জেলা সার ও কীটনাশক কমিটির সভাপতি ওছমান আলী। সারের পর্যাপ্ত মজুদ আছে এমন দাবি করে তিনি বলেন, “কৃষকরা ভিত্তিহীন অভিযোগে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন। এখানে ইউরিয়ার কোনো সংকট নাই। আমার কাছে এখনও ১,০৪০ বস্তা অর্থাৎ ৫১ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ আছে। ডিএপি মজুদ আছে দেড় টন, এমওপি প্রায় এক টন, আর টিএসপি আছে ১.৬৫ মেট্রিক টন। তবে মাসের শেষ, সে কারণে নন-ইউরিয়ার মজুদ কমে গেছে।”

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আশ্বাসে কৃষকেরা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।