শরৎ: চায়ের দেশে কাশফুলের শুভ্রতা

শরতের আগমনে নতুন রূপে সেজেছে চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর উঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগানের বুক চিরে বয়ে চলা পাহাড়ি ছড়ার দুই পাশে এখন বইছে শরতের পসরা। বালুচরে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা কাশবনের শুভ্রতা মোহিত করছে পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। 

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ সড়কসংলগ্ন বেলতলী ও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) এলাকার ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাড়ে দেখা মিলেছে এই দৃশ্যের। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকজুড়ে বিস্তৃত এই কাশফুলের বালুচর এখন শ্রীমঙ্গলের অন্যতম আকর্ষণীয় সাময়িক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। 

প্রতি বছর আগস্টের শেষ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই কাশবনগুলোর সৌন্দর্য টিকে থাকে। এই দুই মাস স্থানীয় মানুষ ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটির দিনে হাজারো পর্যটক ভিড় জমান এখানে। 

চা-বাগানের গাঢ় সবুজের সঙ্গে কাশফুলের সাদা রঙের এমন মিতালি দেখতে পেরে উচ্ছ্বসিত দূরদূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা।  

তবে পর্যটকদের অনেকে অজান্তেই ফুল ছিঁড়ে বা গাছের ভেতরে প্রবেশ করে প্রকৃতি নষ্ট করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা। 

স্থানীয় ট্যুর গাইড রাসেল আলম ও শ্যামল দেব বর্মার মতে, ‘‘কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য যেকোনো পর্যটকের মন কেড়ে নেয়। শরৎকালের এই অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এখন শ্রীমঙ্গলের পর্যটনেও যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা।’’ 

ঢাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘গন্তব্য ছিল লাউয়াছড়া উদ্যানে। হঠাৎ গাড়িতে বসে চোখে পড়লো কাশবনে। গাড়ি থেকে নেমে বেশ কিছুক্ষণ উপভোগ করলাম। মনটা ভরে গেছে। খুবই ভালো লাগলো।’’ 

ঢাকা সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মঈন উদ্দিন বলেন, ‘‘সাদা ও সবুজের মিলনমেলার পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ি ছড়ার কূলে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি অন্যরকম। কাশফুলের সাদা রঙে মনটা প্রফুল্ল হয়ে গেছে।’’