সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পর্যটকবাহী চান্দেরগাড়ি খাদে পড়ে ১৫ পর্যটক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র নীলাদ্রিলেক থেকে পাশের নেত্রকোনা জেলা থেকে আসা পর্যটকদের নিয়ে বারিক টিলা পর্যটনকেন্দ্রে যাচ্ছিল একটি চান্দেরগাড়ি। টিলার খাড়া ঢাল বেয়ে গাড়িটি উপরে ওঠার সময় হঠাৎ ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে গাড়িটি সড়কের পাশের পাহাড়ি খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ির নিচে চাপা পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মালবাহী পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন পিকআপ গাড়িকে চান্দেরগাড়ির আকৃতি দিয়ে পাহাড়ি সড়কে পর্যটক পরিবহন করা হচ্ছে। এসব গাড়ি স্থানীয় ওয়ার্কশপে অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।
তাদের দাবি, সাধারণত পাহাড়ি সড়কে চলাচলের জন্য দুই হুইলারের গাড়ি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে রূপান্তরিত এসব চান্দেরগাড়িতে একটি হুইলার থাকায় এগুলো বারিক টিলার আঁকাবাঁকা ও উঁচু পথে চলাচলের জন্য অনুপযোগী, বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ।
এলাকাবাসী আরও জানান, পর্যটন এলাকায় প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহনে ব্যবহৃত অতিপুরোনো ও পণ্য পরিবহনের অনুপযোগী পিকআপ গাড়িকে চান্দেরগাড়িতে রূপান্তর করা হচ্ছে। গত দুই বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের এসব ঝুঁকিপূর্ণ গাড়িতে করে উঁচু পাহাড়ি এলাকা বারিক টিলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগেও এসব গাড়ি নিয়ে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব গাড়ির চলাচল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘‘দুর্ঘটনার খবর তিনি জেনেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’’



