উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শজিমেক) শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। হাসপাতালটির শয্যা ১২০০ থেকে বাড়িয়ে ১৮০০ করার পাশাপাশি বর্ধিত শয্যায় চিকিৎসাসেবা চালুরও প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ১২০০ থেকে ১৮০০ করার প্রস্তাবে সম্মতি দেয় অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-২ থেকে জারি করা সম্মতিপত্রে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ সম্মতি দেওয়া হয়।
অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রে বলা হয়, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১২০০ থেকে ১৮০০ করা ও বর্ধিত শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি রয়েছে।
তবে এ সংক্রান্ত যাবতীয় বিধি-বিধান, আনুষ্ঠানিকতা ও নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে প্রতিপালনের শর্তে এ সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে অর্থ বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ১৮০০ করা এবং এ শয্যাগুলোতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব বিধি-বিধান ও সরকারি নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে এ আদেশ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর একটি। বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উত্তরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালে আসেন। বিশেষ করে জটিল রোগের চিকিৎসা, জরুরি সেবা ও বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালটির ওপর রোগীদের ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।
অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রের অনুলিপি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, সংশ্লিষ্ট উপসচিব ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। আর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি অর্থ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি দুই দপ্তরের ধারাবাহিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ ও অনুমোদিত শয্যায় চিকিৎসাসেবা চালুর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।