সাতক্ষীরার একই বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার তথ্য পেয়েছে তালা উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি জানার পর ওই ছাত্রীদের অভিভাবককে ডেকে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেন ইউএনও।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তালা উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ১১ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়। সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাল্যবিয়ে বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রশাসনিক প্রধান সাকিবুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য ছিল, জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে পারিবারিকভাবে মৌখিক বিয়ে হয়েছে ১১ জনের। পরবর্তীতে আরও দুইজনের তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ১৩ জনের গোপনে মৌখিকভাবে বিয়ে হয়ে যায়। তবে বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা রেজিস্ট্রি হয়নি। এর মধ্যে অনেকের দেখাদেখি করে রেখে দেওয়া হয়েছিল।”

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, “১৩ ছাত্রীর বিয়ের তথ্য পাওয়ার পর ১১ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নোটিশের পর নির্ধারিত সময়ে আটজন ছাত্রীসহ ১১ জনের অভিভাবক ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত হন।”

নাজমুন নাহার আরও বলেন, “অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বাল্যবিয়ে বন্ধ রাখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।”

ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, “ একই বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি জানার পর তাদের অভিভাবক ডেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা যেন সংসারে ফিরে না গিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ছাত্রীদের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাস কুমার দাস, তালা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুজ্জামান, ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তালেব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ।