বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে আহত ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ২ জন গ্রেপ্তার

বগুড়া সদরে আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নগরীর মাটিডালি এলাকায় ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির পর ছুরিকাঘাতে আহত ব্যবসায়ী মোকছেদুল হাসান (৩৮) মারা গেছেন।

ঢাকায় হাসপাতালে সাতদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি মারা যান। মোকছেদুল হাসান মাটিডালি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী এ তথ্য জানিয়েছেন। এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইতোমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদর উপজেলার বারোপুরে একটি ৩২ বিঘার আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মোকছেদুল হামলার শিকার হন। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে মাটিডালি উত্তরপাড়ায় তার উপর হামলা চালানো হয়েছিল। ১০-১৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলে আসে। তাদের কাছে পিস্তল, রামদা ও হকিস্টিক ছিল।

আতঙ্ক সৃষ্টি করে লোকজনকে সরিয়ে দিতে তারা প্রথমে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। পরে দুর্বৃত্তরা মোকছেদুলকে একা পেয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‌্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ৭.৬৫ ক্যালিবার পিস্তলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

গুরুতর আহত মোকছেদুলকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, হামলার পর ৬ সেপ্টেম্বর মোকছেদুলের মা রেবেকা বেগম সদর থানায় মামলা করেন। পরে ডিবি পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করেন। তারা অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত নাজমুল হুদা রাফিত (২১) ও হাছান আকন্দকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে।

সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, আমবাগান লিজ নেওয়া বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত মোকছেদুল হাসান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আগের মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।