Friday, September 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গুলিতে নিহত শুভর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ, হয়নি শেষকৃত্য

মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ এএম

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাসের (৩০) ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ কারণে হত্যার ছয় দিন পরও তার মরদেহের দাফন বা দাহ কোনোটিই করা সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুরুল হুদা শুভর মরদেহ হিমাগারে রাখার নির্দেশ দেন। তবে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, “শুনানি শেষে আদালত শুভর মরদেহ হিমাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।“

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, “আদালতের নির্দেশে শুভর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।“

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, শুভর বাবা ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। শুভও একজন মুসলিম নারীকে বিয়ে করেছিলেন। তবে তার ভোটার আইডি কার্ডে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করা হয়নি।

শুভর ভাই ইবরাহিম বলেন, “তারা দুই ভাই একসঙ্গে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার রওজাতুস সালেহীন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন। তার দাবি, শুভ মুসলিম ছিলেন। তাই তাকে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে।“

অন্যদিকে শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে হিন্দু ধর্মে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাই তিনি ছেলের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাহ করতে চান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের ২০০৩ সালে তালাক হয়। এরপর শুভ, তার মা, এক ভাই ও এক বোন মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। শুভ অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে “বিল্লাল” নাম নেন। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী জ্যুথিও মুসলিম। তাদের একটি সন্তান রয়েছে, যার নাম সুমাইয়া।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ার পর প্রথমে শুভর মরদেহ সদর মডেল থানার অ্যাম্বুলেন্সের ডিপফ্রিজে রাখা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে স্থানান্তর করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, “শুভর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বিষয়টি আদালত দেখছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুভর মরদেহ দাহ বা দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।“

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনের সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ, পাঁচটি গুলির খোসা ও ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর এক সহযোগীর মাধ্যমে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। সেখানে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ফেলে। পরে তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রিমান্ডে থাকা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে একটি ঝোপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, শুভর বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।

   

About

Popular Links

x