Thursday, September 10, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গুলিতে নিহত শুভর শেষ ঠিকানা কবর নাকি শ্মশান?

মরদেহটি পাঁচ দিন ধরে লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সের ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষিত আছে

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাসের (৩০) মরদেহ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিহতের ধর্মীয় পরিচয় দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধের জেড়ে মরদেহটি পাঁচ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সের ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষিত আছে।

নিহত শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তবে শুভর মা দাবি করছেন, তার ছেলে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত মরদেহ দাহ করা হবে, নাকি দাফন করা হবে; সে সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শুভর ভাই ইবরাহিম জানান, তারা দুই ভাই একসঙ্গে মুসলমান হন; সুন্নতে খাতনা করেন। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার রওজাতুস সালেহীন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন।

তবে বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, শুভ হিন্দু ধর্মে জন্মেছেন। তাই তিনি ছেলের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করতে চান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান জানান, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের ২০০৩ সালে তালাক হয়। এরপর শুভ, তার মা এবং এক ভাই ও এক বোন মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। শুভ অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে ‘বিল্লাল’ নাম রাখেন। তিনি মুসলিম রীতি অনুযায়ী কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী জ্যুথিও মুসলিম। তাদের সন্তানের নাম সুমাইয়া।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুভ হিন্দু নাকি মুসলিম; এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বিষয়টি এখন আদালত দেখছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুভর মরদেহ দাহ বা দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। গত ৫ দিন ধরে সদর মডেল থানায় মরদেহটি লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ এবং ৫টি গুলির খোসা, ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশের দাবি, ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর এক সহযোগীকে দিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে ১০-১২ জনের একটি দল ঘিরে ফেলে। পরে তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রিমান্ডে থাকা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে ঝোপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করে ডিবি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুভর বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে এবং এর আগে মাদকবিরোধী অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছিল।

   

About

Popular Links

x