চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, তারা ওই এলাকার একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে প্রায় দেড় মাস ধরে ভাড়া থেকে অনলাইন প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন, যাতে সহায়তা করেছে দেশীয় একটি চক্রও।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকা থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তা্রকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন ও ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কারও কাছেই কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তারা প্রতারণা ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। বাংলাদেশে নির্বিঘ্নে এই চক্র চালাতে তাদের দেশীয় ও বিদেশি সহযোগী রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এখনো চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ও তাদের পলাতক সহযোগীরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পরস্পরের যোগসাজশে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কাজ করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মুঠোফোন, একটি অ্যাপল ট্যাব, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার হয়েছে।
কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।