বরিশাল নগরীর দৈনিক সমকাল কার্যালয় থেকে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে কয়েকটি চিরকূট পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর প্যারারা রোডের ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার কার্যালয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে রাতে বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকূট উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি।
৫৭ বছর বয়সী পুলক চ্যাটার্জি একসময় দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান ছিলেন। পরিবার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের দিকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। তিনি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন এবং বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পুলক চ্যাটার্জির ছোট ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক কুমার চ্যাটার্জি চিরকূটগুলো দেখার পর জানান, লেখাগুলো তার ভাইয়েরই হাতের লেখা।
এর মধ্যে একটি চিরকূটে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি, বরং শারীরিক অসুস্থতা ও ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রসঙ্গে লিখেছেন।
জাকির নামে একজনকে উদ্দেশ্য করে লেখা আরেকটি চিরকূটে তিনি প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, এস এম জাকির হোসেন বর্তমানে বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় “দৈনিক মতবাদ” পত্রিকার সম্পাদক, তার সঙ্গে পুলক চ্যাটার্জির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
মেয়েকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিরকূটে তিনি পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
সাবেক সহকর্মী ও সমকালের বর্তমান ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরীর উদ্দেশ্যে লেখা আরেকটি চিরকূটে তিনি দেড় দশকের সহকর্মীর কাছে সমকাল কার্যালয়ে তার পাওনা টাকা আদায় করে পরিবারকে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুমন চৌধুরী বলেন, “সমকালের কাছে পুলক চ্যাটার্জির কত টাকা পাওনা রয়েছে, তা আমার জানা নেই।”
প্রতিটি চিরকূটের নিচে পুলক চ্যাটার্জির স্বাক্ষর ও তারিখ রয়েছে।



