ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জানালেন তথ্য উপদেষ্টা

দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সহজীকরণের স্বার্থে ভারতে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য আসামিদের দেশে ফেরত দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারের সাথে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ভারতীয় হাই কমিশনারের সাথে সাক্ষাতে শেখ হাসিনাসহ ভারতে পলাতক সব আসামিদের ফিরিয়ে আনার ইস্যুতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সাথে একটি কার্যকর সম্পর্ক জোরদারের স্বার্থেই ভারত সরকারের উচিত এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা।

শেখ হাসিনাসহ ওবায়দুল কাদের ও অন্য আসামিদের ফেরানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাসহ সকল অভিযুক্তকেই ফেরত চায় সরকার। আওয়ামী শাসনের দীর্ঘ বছরের বর্বরতার সাথে অনেকেই জড়িত ছিল এবং ভারতের কাছে আহ্বান থাকবে তারা যেন দুই দেশের সম্পর্ক সহজীকরণের স্বার্থে এই শর্তটি পূরণ করে।

পলাতক আসামিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তারা বিদেশে বসে আরাম-আয়েশের জীবনযাপনের পাশাপাশি ফেসবুকে নানা নসিহত প্রসব করছে, যা দেশের মানুষের অনুভূতিতে চরম আঘাত হানছে। ভারত সরকার নিশ্চয়ই বাংলাদেশের মানুষের এই সেনসিটিভিটি উপলব্ধি করে আসামিদের হস্তান্তর করবে।

আওয়ামী শাসনামলের সকল অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মাফিয়া শাসনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দলটিই বর্তমানে রাষ্ট্রের দায়িত্বে রয়েছে। দেশের বিচারব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন, ফলে বিচার পাওয়ার স্বার্থে অভিযুক্ত যে কেউ আদালতে আসতে পারেন।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ জানান, জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তাই কমিশন ও সরকার সমন্বয় করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।