ফরিদপুরে থানার সামনের খোলা মাঠে জব্দ বাসে আগুন

 

ফরিদপুর সদর উপজেলার করিমপুর হাইওয়ে থানার হেফাজতে জব্দ করে রাখা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস আগুনে পুড়ে গেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর থেকেই বাসটি হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে ছিল।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানা চত্বরে রাখা বাসটিতে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট উৎস শনাক্ত করতে পারেনি ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস; তাদের ভাষায়, এটি “যেকোনোভাবে” ধরতে পারে।

করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মেছড়দিয়া মোড় এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় পড়ে বাসটি। সেদিন মহাসড়কের পাশে দাঁড় করানো ময়দাবাহী একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় বাসটি, যাতে বাসের সুপারভাইজার নিহত হন। এরপর থেকেই বাসটি করিমপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছিল।

জানা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত করিমপুর হাইওয়ে থানাটি নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছে মাত্র কয়েক মাস আগে। নতুন ভবনে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় জব্দ করা যানবাহনগুলো থানার সামনে মহাসড়ক-সংলগ্ন খোলা মাঠে রাখা হতো, যেখানেই ছিল আলোচিত বাসটি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম জানান, রাত ১০টা ২৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন বাসটি দাউদাউ করে জ্বলছে। তিনি বলেন, “নতুন স্থানে থানা স্থানান্তরের কারণে এখনো সবকিছু গুছিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি এবং থানার সামনের মাঠে সীমানাপ্রাচীর না থাকাই এই ঘটনার একটি কারণ হতে পারে।”

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শ্রীবাস বাড়ৈ জানান, খবর পাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং রাত ১১টা ১০ মিনিটের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো অজানা বলে জানান তিনি। তার ভাষ্যমতে, ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া, কয়েল বা সিগারেটের আগুন থেকে সূত্রপাত কিংবা অন্য কোনো কারণেও এটি ঘটে থাকতে পারে, যা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

এদিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বাসটি যেখানে রাখা ছিল সেই স্থানটি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত ছিল না এবং আশপাশেও ক্যামেরা পাওয়া কঠিন। তবে প্রযুক্তিগত ও প্রচলিত উভয় পদ্ধতিতেই আগুনের প্রকৃত কারণ এবং এর নেপথ্যে কোনো দুষ্কৃতকারী জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।