৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরেছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ মালিকানাধীন ১,৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট (রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র) ৮ দিন পর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরেছে। 

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে এর দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করার মাধ্যমে দুটি ইউনিটই সচল হয়েছে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিটটি রক্ষণাবেক্ষণ শেষে ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় চালু করা হয়েছে। চালুর পর প্রাথমিকভাবে ৩৬৮.৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কেন্দ্রটিতে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত কয়লা মজুদ রয়েছে।

দেশব্যাপী তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে বয়লার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনীয় কারিগরি জটিলতার কারণে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১১টায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এতে এক লাফেই ১৩২০ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। এ নিয়ে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু পর কারিগরি ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে ৩০ বারের বেশি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটের ত্রুটি সামাল দিতে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী এসে কাজ করে। এ অবস্থায় ৮ দিন ধরে একটি ইউনিট দিয়ে কেন্দ্রটি সচল রাখা হয়েছিল। যার কারণে উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, বিগত ২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। 

২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে একটি কোম্পানি গঠিত হয়। 

এই কোম্পানির অধীনে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী- কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় এক হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) নামে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই কেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। আর এক বছর পরে ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদনে যায় ২য় ইউনিট। আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ। 

পর্যাপ্ত কয়লার মজুত থাকার পরও রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট হটাৎ করে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনীয় কারিগরি জটিলতায় কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হবার আগে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। 

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই কেন্দ্রটি কখনোই ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।

তবে, হঠাৎ করেই ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় সার্বিক উৎপাদন ১১০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এতে করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যু সরবরাহ আরও কমে লোডশেডিং আরও তীব্র হয়।