মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ৫ শিক্ষার্থী, ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ ছাত্রী আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কাশিপুরের হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ ছাত্রীরা হলো মোছাম্মদ জিদনি (১৪), লামিয়া (১৪), মরিয়ম (১২), আতিয়া (১১) ও আছিয়া (১০)। তাদের সবাইকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের বরাতে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, বিকেলে মাদ্রাসার তিনতলা ভবনের ছাদে খেলছিল ছাত্রীরা। তাদের সঙ্গে একটি আখ ছিল। ভবনের ছাদের ওপর দিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন তার যাওয়ায়, অসাবধানতাবশত আখটি সেই তারের সংস্পর্শে এলে ছাত্রীরা দগ্ধ হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী পাঁচ ছাত্রী দগ্ধ অবস্থায় জরুরি বিভাগে আসে এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন ও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আবদুর রহমান জানান, তার প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় আড়াই শ ছাত্রী পড়াশোনা করে। বিকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাদে খেলতে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধদের মধ্যে জিদনির শরীরের ৮২ শতাংশ, লামিয়ার ৫৫ শতাংশ ও আতিয়ার ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এই তিন ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাকি দুই ছাত্রীর মধ্যে একজনের শরীরের ১৩ শতাংশ ও অন্যজনের ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।