‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুমকি এনসিপি নেতার, ভিডিও ভাইরাল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় দাঁড়িয়ে “থানার ইট খুলে নেওয়ার” হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে থানার ভেতরে ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে যুবাইর সরদার ওই বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি যুবাইর সরদার, নারায়ণগঞ্জ এনসিপির আহ্বায়ক। যদি আমার একটা কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলে, লাশের বদলে লাশ নেব। আমার একজন নেতাকর্মীর গায়ের রক্ত পড়ে আরেকবার, থানার ইটকল পর্যন্ত খুলে নেব।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে ফতুল্লার বক্তাবলী বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন এনসিপির জেলা কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম। হামলার খবর পেয়ে এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনও থানায় যান।

এনসিপির জেলা প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সম্পাদক সোনিয়া আক্তার লুবনা অভিযোগ করেন, সোমবার বিকেলে একটি বৈঠকে বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে এলাকাবাসী এনসিপির নেতাকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে এনসিপির নেতারা প্রতিবাদ করে বক্তব্য দেন। এর জের ধরে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নির্দেশে তার ছোট ভাই ইয়াসিন ও অনুসারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাওহীদুল গুরুতর আহত হন এবং তার মাথায় আঘাত লাগে।

এ ঘটনায় এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান বাদী হয়ে হালিম আজাদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন।

এদিকে “থানার ইট খুলে নেওয়ার” বক্তব্যের বিষয়ে যুবাইর সরদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, “যখন তারা স্লোগান দিচ্ছিল, তখন আমি আমার কক্ষে ছিলাম। এমন স্লোগান দিতে শুনিনি।” তবে কেউ এমন স্লোগান দিয়ে থাকলে তা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, এমন একটি স্লোগান দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। তবে ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দলের কিছু নেতাকর্মী থানায় গিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়েছেন। তবে ওই সময় ওসি তার কক্ষে থাকায় স্লোগানটি শুনতে পাইনি।”

মামলার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “এনসিপি নেতার ওপর হামলার ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”