গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আয়শা সিদ্দিকা জ্যোতি (৩২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুড়িয়া শরীফ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই জ্যোতিকে নির্যাতন করা হতো। তাদের দাবি, তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

জ্যোতি বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর ওকরাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। সাত বছর আগে পাকুড়িয়া শরীফ এলাকা্র শহিদুল ইসলাম লেবুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শহিদুল লালচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। দম্পতির একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

জ্যোতির পরিবারের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকেই নানা সময়ে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো। শুরুতে কোনো দাবি না থাকলেও পরে মোটরসাইকেল কেনা ও বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্বামী শহিদুল চাপ দিতে থাকেন। আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও জ্যোতির বাবা কিস্তিতে একটি পালসার মোটরসাইকেল কিনে দেন। কিন্তু মোটরসাইকেলটি পছন্দ না হওয়ায় শহিদুল সেটি ফেরত দেন বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে ছেলেসন্তান জন্মের পরও বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে জ্যোতির ওপর চাপ অব্যাহত ছিল। জয়নাল আবেদীন অবসরে যাওয়ার পর রংপুর শহরে জমি কেনার কথা বলে তার কাছে ২২ লাখ টাকা দাবি করেন শহিদুল। প্রায় দেড় মাস ধরে এ টাকা আনতে জ্যোতিকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর নির্যাতন আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের।

জ্যোতির ছোট ভাই জাহিদ বলেন, “আমার বোন আত্মহত্যা করার মানুষ নয়। অনেক কষ্ট সহ্য করেও সে ওই বাড়িতেই থাকত। কিছুদিন আগে শহরে জমি কেনার কথা বলে ২২ লাখ টাকা চাওয়া হয়। আমাদের বিশ্বাস, আমার বোনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম জানান, সকালে শহিদুল স্থানীয় লোকজনকে তার স্ত্রীর ফাঁসিতে ঝুলে মারা যাওয়ার খবর দেন। পরে লোকজন গিয়ে জ্যোতির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ নামিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর শহিদুলসহ তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিয়ের পর থেকে জ্যোতিকে মারধর করা হতো বলে তারা শুনেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। শহিদুলের অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে; তবে এ বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মামলা হলে পুলিশ আইনগতভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।”